বিশ্বকাপের মাঝেই ‘মেগা অফার’ পেয়ে গেলেন গৌতম গম্ভীর, ভারতের কোচের পদ ছেড়ে কি তাহলে নতুন চাকরিতে যোগদান করবেন গম্ভীর?
বিশ্বকাপের মাঝেই গৌতম গম্ভীরকে ঘিরে জোর জল্পনা। রাজস্থান রয়্যালসের তরফে পার্টনার, মেন্টর ও সিইও—একসঙ্গে তিনটি ভূমিকার প্রস্তাব এবং ইকুইটি শেয়ারের অফার ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তবে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি ও জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার, ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্বই কি অগ্রাধিকার থাকবে, নাকি আইপিএলের নতুন অধ্যায় শুরু করবেন গম্ভীর।

ভারতীয় ক্রিকেটে এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচিত বিষয় গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ। বিশ্বকাপের মাঝপথে একটি বড় প্রস্তাব ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—তিনি কি জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নতুন ভূমিকায় যোগ দেবেন? বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও বাস্তব পরিস্থিতি, নিয়মকানুন এবং চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা বিবেচনা করলে চিত্রটি অনেকটাই পরিষ্কার হয়।
বিশ্বকাপে ভারতের দাপট এবং গম্ভীরের ভূমিকা!
টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬১ রানের জয় তুলে নিয়ে ভারত সুপার এইট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে টানা তিন ম্যাচ জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দল। এই সাফল্যের পেছনে কৌশলগত প্রস্তুতি, দল নির্বাচন এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন প্রধান কোচ Gautam Gambhir।
গম্ভীরের কোচিং দর্শন বরাবরই আক্রমণাত্মক কিন্তু বাস্তববাদী। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলা এবং ম্যাচ অনুযায়ী ফ্লেক্সিবল কৌশল প্রয়োগ—এই দুই দিকেই তাঁর জোর। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই দৃষ্টিভঙ্গি ফলও দিচ্ছে।
আরো পড়ুন: আইপিএলের দেশে এবার বিগ ব্যাশ!
রাজস্থান রয়্যালসের প্রস্তাব: কী জানা যাচ্ছে?
এমন সময়ে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি Rajasthan Royals থেকে গম্ভীরের কাছে একটি বহুমাত্রিক প্রস্তাব যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁকে একই সঙ্গে পার্টনার, মেন্টর এবং সিইও—এই তিনটি ভূমিকায় দেখতে চায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবের সঙ্গে ২-৩ শতাংশ সংখ্যালঘু ইকুইটি শেয়ারের কথাও শোনা যাচ্ছে।
রাজস্থানের মালিকানায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন এক স্টেকহোল্ডার যুক্ত হওয়ার জল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান মালিকানা রয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী Manoj Badale-এর হাতে, তাঁর সংস্থা Emerging Media-র মাধ্যমে। এছাড়া অংশীদার হিসেবে রয়েছে RedBird Capital Partners এবং Lachlan Murdoch।
এই প্রেক্ষাপটে গম্ভীরের মতো সফল প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কৌশলী মেন্টরকে দলে টানার চেষ্টা ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আর্থিক প্রলোভন বনাম জাতীয় দায়িত্ব— কোন পথে হাঁটবেন গম্ভীর?
ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে গম্ভীরের বার্ষিক পারিশ্রমিক আনুমানিক ১২-১৪ কোটি টাকার মধ্যে। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির পার্টনার-সহ একাধিক ভূমিকায় গেলে আর্থিক অঙ্ক যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। উপরন্তু, ইকুইটি শেয়ার দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
তবে বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থের নয়। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করা মানে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার, আইসিসি টুর্নামেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রিকেট উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত থাকা। ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অলিম্পিক্স পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
আরো পড়ুন: শাহরুখের কাছে এবারের বিশ্বকাপ যেন 'অভিশাপ', কিন্তু কেন?
‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি: বড় বাধা!
ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি কার্যকর রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনাগত পদে থাকা সম্ভব নয়।
অর্থাৎ, যদি গম্ভীর রাজস্থান রয়্যালসের প্রস্তাব গ্রহণ করতে চান, তাহলে তাঁকে জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়তে হবে। বিশ্বকাপের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক।
এক ঝলকে আইপিএলে গম্ভীরের অতীত সাফল্য!
গম্ভীরের আইপিএল অধ্যায় অত্যন্ত সফল। তিনি Kolkata Knight Riders-এর অধিনায়ক হিসেবে দু’বার শিরোপা জিতেছেন এবং পরে মেন্টর হিসেবেও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দল কৌশলগত দৃঢ়তা ও মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছে।
এছাড়া Lucknow Super Giants-এর মেন্টর হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। দলটি ধারাবাহিকভাবে প্লে-অফের দৌড়ে থেকেছে এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আইপিএল মহলে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে।
বর্তমান রাজস্থান রয়্যালসের কাঠামো!
বর্তমানে রাজস্থান রয়্যালসের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্বে আছেন Kumar Sangakkara। দলের অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। সাপোর্ট স্টাফে সহকারী কোচ বিক্রম রাঠোর এবং ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে আছেন Shane Bond। এই কাঠামোর মধ্যে গম্ভীরকে যুক্ত করতে গেলে বড় প্রশাসনিক ও কৌশলগত পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।
সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতে গম্ভীরের সামনে দুটি পথ—জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে অবিচল থাকা অথবা আইপিএলে উচ্চপ্রোফাইল ব্যবস্থাপনাগত ভূমিকায় ফেরা। তবে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে এবং চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার প্রেক্ষাপটে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে।
জাতীয় দলের সাফল্য, ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্ট এবং অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন—এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গম্ভীরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে কোনও সিদ্ধান্তই হবে গভীর বিবেচনা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তিতে।
Tags:



