'ক্রিকেটার' বিরাট কোহলি এখন 'ভক্ত' বিরাট কোহলি হয়ে গেছেন, আবারও তড়িঘড়ি প্রেমানন্দ মহারাজের শরণাপন্ন বিরুষ্কা! কিন্তু কেন?
ভারতীয় ক্রিকেট ও বলিউড জগতের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা—যাঁদের ভক্তরা স্নেহভরে ‘বিরুষ্কা’ নামে ডাকেন—সম্প্রতি আবারও আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ-এর আশ্রমে উপস্থিত হন। তাঁদের এই সফর ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের কৌতূহল—কোন বিশেষ কারণে ফের আশ্রমে গেলেন এই তারকাদম্পতি?

কয়েক দিন আগে বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা-কে মুম্বই বিমানবন্দরে একসঙ্গে দেখা যায়। সেদিন থেকেই তাঁদের সফর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে অনুষ্কার গলায় তুলসীর মালা ভক্তদের নজর কাড়ে। পরে জানা যায়, তাঁরা সোজা পৌঁছেছিলেন উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে অবস্থিত কেলিকুঞ্জ আশ্রমে, যেখানে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত রয়েছেন প্রেমানন্দ মহারাজ।
এই সফর ছিল ভোরবেলার। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁরা আশ্রমে পৌঁছন। সাধারণত এই সময়েই সেখানে প্রার্থনা, কীর্তন ও আধ্যাত্মিক আলোচনা শুরু হয়। তারকা পরিচয় সত্ত্বেও তাঁরা একেবারে সাধারণ ভক্তদের মতোই নিরবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিরাট-অনুষ্কার গলায় তুলসীর মালা!
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিরাট ও অনুষ্কা চুপচাপ বসে আছেন, আশেপাশে অন্যান্য ভক্তদের ভিড়। দু’জনের গলাতেই তুলসীর মালা, কপালে তিলক। অনুষ্কার পরনে ছিল নীল রঙের চুড়িদার ও ওড়না, আর বিরাটের সাদা শার্ট—সাদামাটা কিন্তু আধ্যাত্মিক আবহের সঙ্গে মানানসই।
হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় তুলসীর মালা ভক্তি, আত্মসমর্পণ ও ঈশ্বরচিন্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে বৃন্দাবন অঞ্চলে রাধা-কৃষ্ণ ভক্তদের মধ্যে এর প্রচলন বেশি। এই সফরে তাঁদের পোশাক ও উপস্থিতি থেকে বোঝা যায়, তাঁরা নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আন্তরিক ভক্তি নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন।
আরো পড়ুন: ক্রিকেট মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে ইমরান খানের পাশে দাঁড়ালেন সৌরভ গাঙ্গুলি ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন!
পুত্র অকায়ের জন্মদিন!
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁদের পুত্র অকায়ের জন্মদিন। সন্তানের সুস্থতা ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় তাঁরা আশ্রমে প্রার্থনা করতে যান। তারকা জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকেন্দ্রিক মূল্যবোধ যে তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, এই সফর তা-ই ইঙ্গিত দেয়।
ভারতীয় সংস্কৃতিতে সন্তানের জন্মদিনে মন্দির বা আশ্রমে গিয়ে প্রার্থনা করার রীতি নতুন নয়। অনেকেই এই দিনটিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আশীর্বাদ প্রার্থনার উপলক্ষ হিসেবে দেখেন। বিরাট ও অনুষ্কাও সেই ঐতিহ্য মেনেই আধ্যাত্মিক আশ্রয় নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগেও গিয়েছেন প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে!
এটি তাঁদের প্রথম সফর নয়। এর আগেও একাধিকবার তাঁরা প্রেমানন্দ মহারাজের সান্নিধ্যে গিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও তাঁরা আশ্রমে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় অনুষ্কা বলেছিলেন, তাঁরা নিজেদের সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরচিন্তায় সমর্পণ করতে চান এবং গুরুজনের আশীর্বাদ কামনা করেন।
প্রেমানন্দ মহারাজও তাঁদের উদ্দেশে বলেন, সকলেই ঈশ্বরের সন্তান, এবং জীবনের নানা সাফল্য বা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আধ্যাত্মিক চর্চা বজায় রাখা জরুরি। তাঁর বক্তব্যে ভক্তি, নম্রতা ও মানবিকতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বিরাট কোহলি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে পরিচিত। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে তাঁর শৃঙ্খলা, ফিটনেস সচেতনতা ও মানসিক দৃঢ়তা বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে, অনুষ্কা শর্মা বলিউডে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার কাজেও সক্রিয়।
তবে কেবল পেশাগত সাফল্য নয়, তাঁদের আধ্যাত্মিক অনুরাগও ভক্তদের কাছে আলোচনার বিষয়। জনসমক্ষে তাঁরা একাধিকবার জানিয়েছেন, মানসিক শান্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে আধ্যাত্মিক চর্চা তাঁদের সাহায্য করে। এই ধরনের সফর সেই বিশ্বাসকেই আরও দৃঢ় করে।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশের বুলবুলকে নিজের আসল রূপ দেখিয়ে দিল পাকিস্তান!
আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে আধুনিক জীবনের সমন্বয় বিরাট-অনুষ্কার!
তারকা জীবনে চাপ, প্রত্যাশা ও সমালোচনা—সবই থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মানসিক স্থিতি খুঁজতে ধ্যান, যোগ বা ধর্মীয় অনুশীলনের আশ্রয় নেন। বিরাট ও অনুষ্কার ক্ষেত্রেও তা আলাদা নয়। প্রকাশ্যে তাঁরা যেভাবে আধ্যাত্মিকতার কথা বলেন, তাতে বোঝা যায় এটি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কেলিকুঞ্জ আশ্রমে তাঁদের উপস্থিতি নিছক প্রচার নয়, একান্ত ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া কী?
ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক ভক্ত তাঁদের সরলতা ও ভক্তিভাবের প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ কৌতূহলী হয়েছেন—এত ব্যস্ত সূচির মধ্যেও কীভাবে তাঁরা সময় বের করেন? তবে সামগ্রিকভাবে এই সফরকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়েছে।
তারকাদের ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস সাধারণ মানুষের কাছে বরাবরই আগ্রহের বিষয়। কিন্তু বিরাট ও অনুষ্কার ক্ষেত্রে বিষয়টি অতিরঞ্জিত না হয়ে একটি স্বাভাবিক আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবেই সামনে এসেছে।
বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার সাম্প্রতিক আশ্রম সফর প্রমাণ করে, খ্যাতি ও সাফল্যের মাঝেও তাঁরা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেন। পুত্রের জন্মদিন উপলক্ষে আশীর্বাদ প্রার্থনা হোক বা মানসিক শান্তির খোঁজ—তাঁদের এই পদক্ষেপ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণাদায়ক।
তারকা জীবনের ঝলকানির আড়ালে এই আধ্যাত্মিক অধ্যায় তাঁদের মানবিক দিকটিকেই সামনে আনে। আর ভক্তদের কাছে সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় বার্তা—সাফল্যের পাশাপাশি আত্মিক শান্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
Tags:



