শ্রীলঙ্কা বনাম অস্ট্রেলিয়া: নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতেই বদলে গেল সব সমীকরণ!
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাথুম নিসাঙ্কার দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটের জয় পায় শ্রীলঙ্কা। এই জয়ের ফলে সুপার এইটে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় তারা, আর অস্ট্রেলিয়া পড়ে যায় বিদায়ের মুখে। ম্যাচের বিশ্লেষণ, টার্নিং পয়েন্ট ও টুর্নামেন্টের সমীকরণ জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল Sri Lanka national cricket team ও Australia national cricket team। টুর্নামেন্টের এই লড়াই শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ ছিল না, নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণও অনেকটাই নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, যেখানে ব্যাট ও বলের জমজমাট লড়াই শেষে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সুপার এইটে নিজেদের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে।
এই ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে Pathum Nissanka, যার ব্যাট থেকেই আসে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর অনবদ্য ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার ঝড়ো সূচনা, কিন্তু মাঝপথে বড় ধাক্কা!
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুটা করেছিল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। ওপেনার Travis Head ও অধিনায়ক Mitchell Marsh পাওয়ারপ্লেতে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। দু’জনের মধ্যে ১০০ রানের বেশি জুটি অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
হেড মাত্র ২৯ বলে ৫৬ রান করেন, আর মার্শ ২৭ বলে ৫৪ রান যোগ করেন। তবে পাওয়ারপ্লের পর শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ ছন্দে ফেরে। স্পিন ও মিশ্র গতির বোলিংয়ের মাধ্যমে তারা রানরেট কমিয়ে আনে এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলতে থাকে। মিডল অর্ডারে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ফলে ২০ ওভারে দলটি ১৮১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
এই স্কোর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও অপরাজেয় ছিল না—বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ছিল ফর্মে থাকা নিসাঙ্কা।
আরো পড়ুন: ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে কি আর ‘রাইভালরি’ নেই?
নিসাঙ্কার শতরান যেন নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের উদাহরণ!
১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরু থেকেই ইতিবাচক মনোভাব দেখায়। ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন Pathum Nissanka। তিনি শুরুতে সময় নিয়ে উইকেটে সেট হন, তারপর ধীরে ধীরে শটের পরিধি বাড়ান। কভার ড্রাইভ, পুল ও স্কোয়ার কাট—সব ধরনের শটে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
নিসাঙ্কা মাত্র ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কা, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইনিংসের গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা। যখন প্রয়োজন, তখন স্ট্রাইক রোটেশন; আর যখন সুযোগ এসেছে, তখন বড় শট—এই ভারসাম্যই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন Kusal Mendis, যিনি ৩৮ বলে ৫১ রান করেন। এই জুটি অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরিকল্পনাকে ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা, হাতে থাকে ৮ উইকেট।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ও কৌশলগত দিক!
ম্যাচের মোড় ঘোরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে। পাওয়ারপ্লের পর শ্রীলঙ্কার বোলাররা লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে রান আটকে দেন। এতে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয় এবং উইকেট হারায়।
অন্যদিকে, রান তাড়া করার সময় শ্রীলঙ্কা কোনও অযথা তাড়াহুড়ো করেনি। প্রয়োজনীয় রানরেট নিয়ন্ত্রণে রেখেই তারা এগিয়েছে। নিসাঙ্কার ইনিংস ছিল পরিস্থিতি বুঝে খেলার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ—যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন: বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, বোর্ড পরীক্ষা ছেড়ে আইপিএল প্রস্তুতি!
সুপার এইটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন!
এই জয়ের ফলে Sri Lanka national cricket team গ্রুপ থেকে সুপার এইটে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে যায়। অন্যদিকে Australia national cricket team এখন কঠিন সমীকরণের সামনে। পরবর্তী ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তাদের ভাগ্য।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে একটি ম্যাচই পুরো চিত্র বদলে দিতে পারে। এই ম্যাচ সেই বাস্তবতারই প্রমাণ। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলও কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্ত ও মাঝের ওভারে ব্যর্থতার কারণে চাপে পড়ে যেতে পারে।
২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখা গেছে, তবে শ্রীলঙ্কা বনাম অস্ট্রেলিয়া লড়াই বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে Pathum Nissanka-র সেঞ্চুরির জন্য। তাঁর এই ইনিংস শুধু একটি জয় এনে দেয়নি, টুর্নামেন্টের গতিপথও প্রভাবিত করেছে।
Tags:






