তাবড় তাবড় পেসারদের চোট, শাহরুখের কাছে এবারের বিশ্বকাপ যেন 'অভিশাপ', কিন্তু কেন?
টি–২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন একের পর এক পেসারের চোটে চাপে Kolkata Knight Riders। Harshit Rana ও Matheesha Pathirana–র ফিটনেস অনিশ্চিত, আর Mustafizur Rahman–কে ঘিরে জটিলতা—সব মিলিয়ে আইপিএলের আগে বড় দুশ্চিন্তায় নাইট ম্যানেজমেন্ট।

টি–২০ বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। টানটান ম্যাচ, অঘটনের সম্ভাবনা এবং তারকাদের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে জমজমাট আসর। কিন্তু একই সঙ্গে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন দুশ্চিন্তাও। বিশেষ করে Kolkata Knight Riders–এর সমর্থকদের কাছে এবারের বিশ্বকাপ যেন উদ্বেগের আরেক নাম। কারণ একের পর এক পেসারের চোট নাইট শিবিরকে আইপিএলের আগেই চাপে ফেলে দিয়েছে।
পেস বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ধাক্কা!
গত কয়েকটি মরশুমে কেকেআরের অন্যতম দুর্বলতা ছিল পেস বোলিং। অভিজ্ঞ বিদেশি পেসারের অভাব মাঝেমধ্যে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে সমস্যায় ফেলেছে। বিশেষ করে Mitchell Starc–কে ছেড়ে দেওয়ার পর অভিজ্ঞতার ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়। বিকল্প হিসেবে যাঁদের নেওয়া হয়েছিল, তাঁরা প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি সফল হতে পারেননি।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন মরশুমের আগে কেকেআর পেস আক্রমণকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে দলে আনা হয় শ্রীলঙ্কার তরুণ তারকা Matheesha Pathirana–কে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার Mustafizur Rahman–কেও দলে ভেড়ায় নাইটরা। দেশীয় বিকল্প হিসেবে ছিলেন Harshit Rana, Vaibhav Arora এবং Umran Malik। কাগজে-কলমে এই আক্রমণ যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ বলেই মনে হয়েছিল।
আরো পড়ুন: সুপার এইটে ভারতের প্রতিপক্ষ কারা?
বিশ্বকাপের মাঝেই চোটের ধাক্কা!
তবে টি–২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রথমে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পান হর্ষিত রানা। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে তাঁকে পাওয়া যায়নি এবং আইপিএলের শুরুও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এরপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয় মাথিশা পাথিরানাকে ঘিরে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলতে গিয়ে তিনি হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় মাঠ ছাড়েন। যদিও সংশ্লিষ্ট বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি চোটের ঘোষণা করেনি, তবুও আইপিএলের আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। পাথিরানার বোলিং অ্যাকশন ও ডেথ ওভারে দক্ষতা কেকেআরের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি হলে দল বড় ধাক্কা খাবে।
এদিকে মুস্তাফিজুর রহমানও বিতর্কজনিত কারণে আইপিএলে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন বলে খবর। সব মিলিয়ে কেকেআরের পেস বিভাগ এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে।
ম্যানেজমেন্টের সামনে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ!
এই পরিস্থিতিতে কেকেআর ম্যানেজমেন্টের সামনে একাধিক কৌশলগত প্রশ্ন উঠে এসেছে। যদি পাথিরানা, মুস্তাফিজুর ও হর্ষিত—তিনজনই পুরোপুরি ফিট না থাকেন, তবে নেতৃত্ব দেবেন কে? সেই ক্ষেত্রে ভরসা করতে হবে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ বৈভব অরোরা ও উমরান মালিকের ওপর।
উমরান মালিক তাঁর গতির জন্য পরিচিত হলেও ধারাবাহিকতা এখনও বড় প্রশ্ন। বৈভব অরোরা নতুন বলে সুইং করাতে সক্ষম, কিন্তু বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা সীমিত। ফলে দলকে হয়তো ব্যাটিং–কেন্দ্রিক কৌশল নিতে হতে পারে, যেখানে বোলিং আক্রমণের ঘাটতি পুষিয়ে দিতে বাড়তি রান তোলার পরিকল্পনা করা হবে।
আরো পড়ুন: পাথুম নিশাঙ্কার অনুপ্রেরণার গল্প চমকে দেবে!
আইপিএলের আগে ফিটনেস আপডেটই প্রধান ভরসা!
আইপিএল শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় রয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে চোট সারিয়ে খেলোয়াড়দের ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্স ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার ফলে অনেক সময় তুলনামূলক দ্রুত প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়। তাই কেকেআর সমর্থকদের এখন প্রধান আশা—পাথিরানার চোট গুরুতর না হোক এবং অন্তত আইপিএলের শুরুর দিকেই তিনি মাঠে ফিরতে পারেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শুধু একটি মরশুমের বিষয় নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা পেসারদের দ্রুত ফিটনেস ফিরে পাওয়া দলের সামগ্রিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেরা মঞ্চ হলেও, তার প্রভাব ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও পড়ে। কেকেআরের ক্ষেত্রে একাধিক পেসারের চোট আইপিএল শুরুর আগেই চাপ বাড়িয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মেডিক্যাল রিপোর্ট ও খেলোয়াড়দের পুনর্বাসনের গতির ওপর।
এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পেস বিভাগের স্থিতিশীলতা কেকেআরের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হতে চলেছে। সমর্থকরা অপেক্ষায়—চোটের অন্ধকার কাটিয়ে নাইটরা পূর্ণ শক্তিতে ফিরতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।
Tags:



