অদিতি হুন্ডিয়াকে কি বিয়ে করতে চলেছেন ইশান কিষাণ? ‘গার্লফ্রেন্ড’ প্রকাশ্যে আসতেই ইশানের মায়ের প্রতিক্রিয়া ভাইরাল!
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঝকঝকে ইনিংস খেলে শিরোনামে ইশান কিষাণ। তবে ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। অদিতি হুন্ডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিয়ের গুঞ্জন ছড়ায়, আর সেই প্রসঙ্গে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ইশানের মা।

টি–২০ বিশ্বকাপ ২০২৬–এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৭৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইশান কিষাণ। মাত্র ৪০ বলে তাঁর এই ম্যাচজয়ী ইনিংস ভারতকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত দল ৬১ রানের বড় জয় পায়। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে স্পিন কৌশলকে দক্ষতার সঙ্গে সামলে ইশান দেখিয়েছেন পরিণত মানসিকতা ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের নিখুঁত মিশ্রণ।
কলম্বোর মাঠে এই জয়ের পর ক্রিকেটবিশ্বে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। ফলে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনায় উঠে আসে।
সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা: Aditi Hundia-র নাম ঘিরে চলছে গুঞ্জন!
ম্যাচের পর ইশানের পারিবারিক সূত্রে দেওয়া একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয় বিয়ের গুঞ্জন। ইশানের দাদু অনুরাগ পাণ্ডে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইশান বর্তমানে মডেল অদিতি হুন্ডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নাতি যাকে বিয়ে করতে চাইবেন, পরিবার তার সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে “বিয়ের সম্ভাবনা” নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে ইশানের পরিবারের তরফে স্পষ্ট বার্তাও এসেছে। ইশানের মা সুচিত্রা দেবী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বিয়ে নিয়ে কোনও আলোচনা করার সময় নয়। তাঁর কথায়, ইশানের এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ ক্রিকেটে থাকা উচিত। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে যা দেখা যায় তার ভিত্তিতেই অনেক সময় বাড়িয়ে কথা বলা হয়। পরিবার হিসেবে তাঁদের অগ্রাধিকার এখন ইশানের ক্রিকেট কেরিয়ার।
এই বক্তব্যে পরিষ্কার, পরিবার বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পরিসরেই রাখতে চাইছে এবং ক্রিকেট থেকে মনোযোগ সরে যাক, তা কেউই চান না।
আরো পড়ুন: ভারতের কোচের পদ ছেড়ে কি তাহলে নতুন চাকরিতে যোগদান করবেন গম্ভীর?
মাঠে ফোকাস, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরবতা ঈশানের!
ইশান কিষাণ নিজেও ম্যাচের পর ব্যক্তিগত প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে দলের পারফরম্যান্সকেই গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটিকে তিনি অন্য সাধারণ ম্যাচের মতোই দেখেছেন। অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে, বল দেখেই শট খেলার কৌশল নিয়েছিলেন। উইকেট ও লক্ষ্যমাত্রা বিচার করে ব্যাটিং করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার পাওয়ার পর ইশান বলেন, এই সাফল্য শুধু তাঁর নয়, পুরো দলের এবং সমর্থকদের। তিনি আরও যোগ করেন, টুর্নামেন্ট এখনও বাকি এবং পরবর্তী ম্যাচগুলিতে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন লক্ষ্য।
এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ব্যক্তিগত জীবনের আলোচনার বদলে ইশান ক্রিকেটেই মনোযোগী থাকতে চান।
স্পিন কৌশল ভেঙে জয়ের ভিত গড়া অতটাও সহজ নয়!
পাকিস্তান ম্যাচে ইশানের ইনিংস ছিল কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ স্পিনারদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কিন্তু হিসেবি ব্যাটিং করেন তিনি। মাঝের ওভারে যখন রান তোলার গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, তখন ইশান ঝুঁকি নিয়ে বড় শট খেলেন। ফলে রানরেট কখনও চাপের মধ্যে পড়েনি।
শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পিছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি স্টাম্পিং করে তিনি প্রতিপক্ষের বিপজ্জনক ব্যাটারকে ফেরান। এতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ভারতের পক্ষে।
টি–২০ ফরম্যাটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে ইশান সেই পরিণত মানসিকতারই পরিচয় দিয়েছেন।
একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের জীবনে পরিবার বড় সমর্থন। ইশানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে পরিবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে এখন তাঁর পেশাদার জীবনই অগ্রাধিকার। এই ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখা একজন তরুণ ক্রীড়াবিদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল নতুন কিছু নয়। সামাজিক মাধ্যমের যুগে সামান্য মন্তব্যও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে। ইশানের সাম্প্রতিক ইনিংস সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে—তিনি এখন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, যেখানে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরো পড়ুন: আইপিএলের দেশে এবার বিগ ব্যাশ!
বিশ্বকাপে ভারতের আত্মবিশ্বাস সত্যিই লক্ষণীয়!
এই জয়ের ফলে টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। পাকিস্তানের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। টিম ম্যানেজমেন্টও তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তুলেছে।
ইশান কিষাণের মতো ওপেনার যখন ফর্মে থাকেন, তখন পাওয়ারপ্লেতে বড় রান তোলা সহজ হয়। এতে মাঝের সারির ব্যাটারদের ওপর চাপ কমে। পাশাপাশি, উইকেটকিপার হিসেবে তাঁর ফিটনেস ও রিফ্লেক্সও দলের জন্য বড় সম্পদ।
ব্যক্তিগত গুঞ্জন বনাম পেশাদার লক্ষ্য!
অদিতি হুন্ডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা আপাতত পরিবার নস্যাৎ করেছে। স্পষ্ট বার্তা—এখন বিয়ের আলোচনা নয়, ক্রিকেটই মূল ফোকাস। এই অবস্থান অনেকটাই বাস্তবসম্মত, কারণ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের এই সময়ে মনোযোগ বিচ্যুতি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইশান নিজেও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য না করে পেশাদার মনোভাবই বজায় রেখেছেন। এটি তাঁর পরিণত ভাবনারই প্রমাণ।
টি–২০ বিশ্বকাপের পথ এখনও দীর্ঘ। ভারতের সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। ইশান কিষাণ যদি একই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে দলের সাফল্যে তাঁর অবদান আরও বাড়বে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, আপাতত তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—মাঠে সেরাটা দেওয়া।
ক্রিকেটারদের জীবনে সাফল্য যেমন আলো নিয়ে আসে, তেমনই বাড়তি নজরও টানে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সই ইতিহাস লেখে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ইনিংস ইশানের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভার প্রমাণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Tags:



