সূর্য-ইশান জুটি আর বুমরাহ ম্যাজিক—হাইভোল্টেজ ম্যাচে নীল বাহিনীর দাপটে ধরাশায়ী পাকিস্তান!

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঐতিহাসিকভাবে আবেগঘন। অতীতের বহু স্মরণীয় লড়াই দুই দলের সম্পর্ককে আরও তীব্র করেছে। তবে আধুনিক ক্রিকেটে পেশাদারিত্বই প্রধান। এই ম্যাচেও দুই দল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

Bangla admin
Bangla admin

4 mins read
Collected Image: India-Pakistan

Be a winner today!

Get the latest cricket updates, Join our community

iconiconicon

২০২৬ সালের ICC Men's T20 World Cup 2026-এ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কেবল একটি ক্রিকেট লড়াই নয়, বরং উপমহাদেশের আবেগ, ইতিহাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহুমাত্রিক প্রকাশ। কলম্বোর R. Premadasa Stadium-এ অনুষ্ঠিত এই গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ সংঘর্ষ। দুই দেশের কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চোখ রেখেছিলেন। মাঠের পরিবেশ, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

Ishan Kishan-এর দাপটে চূর্ণ হয়ে গেল পাকিস্তান!

টসে জিতে পাকিস্তান প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বড় ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নতুন নয়, বিশেষ করে যখন রাতের শিশির বলকে ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক করে তুলতে পারে। তবে এই পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেন ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। শুরুতে কিছুটা সতর্কতা থাকলেও পাওয়ারপ্লের মধ্যেই আক্রমণাত্মক রূপ নেন Ishan Kishan। বাঁহাতি এই ওপেনার শুরু থেকেই বলের লাইন বুঝে শট নির্বাচন করেন। শর্ট বলকে পুল, ফুল লেংথ ডেলিভারিকে কভার ড্রাইভ—সব মিলিয়ে তার ইনিংস ছিল পরিকল্পিত ও পরিণত।

ইশানের ৭৭ রানের ইনিংস কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলের স্কোরবোর্ডকে গতি দেয়। বড় ম্যাচে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রাথমিক আধিপত্য মানসিকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। পাকিস্তানের পেসাররা লাইন-লেংথ পরিবর্তন করে আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করলেও ইশান রোটেশন ও বাউন্ডারির সমন্বয়ে রানরেট ধরে রাখেন। তার ব্যাটিংয়ে ঝুঁকি ছিল, কিন্তু তা ছিল হিসেবি ঝুঁকি—যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফলতার অন্যতম শর্ত।

Suryakumar Yadav-এর অনন্য মাস্টারস্ট্রোক!

মাঝের ওভারে ইনিংসকে ভারসাম্য দেন Suryakumar Yadav। আধুনিক টি-টোয়েন্টির অন্যতম সৃজনশীল ব্যাটার হিসেবে পরিচিত সূর্যকুমার তার স্বভাবসিদ্ধ ৩৬০-ডিগ্রি শট খেলে ফিল্ডিং সেটআপ ভেঙে দেন। পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে তার স্কুপ, রিভার্স সুইপ ও ল্যাপ শট ইনিংসে বৈচিত্র্য আনে। যদিও তিনি অর্ধশতরান করতে পারেননি, তবে দ্রুতগতির রান দলকে ১৭৫/৭ সংগ্রহে পৌঁছে দেয়, যা এই উইকেটে লড়াইযোগ্য স্কোর হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভারতের ইনিংসের শেষদিকে কিছু উইকেট পড়লেও রান তোলার গতি পুরোপুরি থেমে যায়নি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ পাঁচ ওভার প্রায়ই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে। এখানে ভারতের ব্যাটাররা সিঙ্গেল-ডাবলের সঙ্গে বাউন্ডারি যোগ করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখেন। সামগ্রিকভাবে ভারতের ব্যাটিং ছিল পরিকল্পিত—পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণ, মধ্য ওভারে স্থিতি, আর ডেথ ওভারে গতি।

১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে। নতুন বলে নিখুঁত লাইন-লেংথে আক্রমণ শুরু করেন Jasprit Bumrah। বুমরাহর বিশেষত্ব তার ভিন্নধর্মী অ্যাকশন ও ডেলিভারির ভ্যারিয়েশন। তিনি অফ-স্টাম্পের বাইরে ধারাবাহিক গুড লেংথ বল করে ব্যাটারদের ড্রাইভে প্রলুব্ধ করেন, আবার হঠাৎ ইয়র্কার বা স্লোয়ার ডেলিভারি দিয়ে ছন্দ ভেঙে দেন। তার প্রথম স্পেলেই পাকিস্তানের শীর্ষক্রম ভেঙে পড়ে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

মধ্য ওভারে আক্রমণে আসেন Hardik Pandya। অলরাউন্ডার হিসেবে তার ভূমিকা দ্বিমুখী—বল ও ব্যাট দু’দিকেই অবদান রাখার ক্ষমতা। এই ম্যাচে বল হাতেই তিনি বড় প্রভাব ফেলেন। বাউন্সার ও স্লোয়ার বলের মিশ্রণে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারকে বিভ্রান্ত করেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে তিনি রানতাড়ার সম্ভাবনাকে প্রায় শেষ করে দেন। ফিল্ডিংয়েও তার তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পাকিস্তানের ব্যাটাররা রানরেট বাড়াতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে বাধ্য হন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চাপ বাড়লে প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় শটের আশ্রয় নিতে হয়, যা উইকেট হারানোর ঝুঁকি বাড়ায়। এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। নিয়মিত উইকেট পড়ায় স্কোরবোর্ডের চাপ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান ম্যাচ হারায় ৬১ রানে। এই জয় ভারতের জন্য কেবল দুই পয়েন্টই নয়, নেট রানরেটেও বড় সুবিধা এনে দেয়।

বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় দল শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেছে। কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দলের কৌশলগত প্রস্তুতিও এখানে উল্লেখযোগ্য। প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল, যা মাঠে সফলভাবে কার্যকর হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঐতিহাসিকভাবে আবেগঘন। অতীতের বহু স্মরণীয় লড়াই দুই দলের সম্পর্ককে আরও তীব্র করেছে। তবে আধুনিক ক্রিকেটে পেশাদারিত্বই প্রধান। এই ম্যাচেও দুই দল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভারতের ক্ষেত্রে বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও গভীরতা স্পষ্টভাবে কাজ করেছে। টপ অর্ডারের আক্রমণাত্মক শুরু ও বোলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স একত্রে দলকে এগিয়ে দেয়।

এই জয়ের ফলে ভারত গ্রুপ পর্বে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় এবং সুপার এইটে ওঠার পথ সহজ করে।

Tags:

Follow us on

WATCH NOW

 SL vs AUS T20 WC 2026

5 hrs ago

Watch: Twitter reaction on Australia's loss vs Sri Lanka in T20 WC 2026 in Pallekele

Shahid Afridi

7 hrs ago

Watch: 'Set examples' - Shahid Afridi demands axing of non-performers from Pakistan team after poor performance against India in T20 World Cup 2026

Travis Head smashes massive sixes against Dushan Hemantha in SL vs AUS T20 WC 2026

8 hrs ago

Watch: Travis Head smashes massive sixes against Dushan Hemantha in SL vs AUS T20 WC 2026

It is not my job to announce the winner

Rohit Sharma on being asked if England were rightly awarded the World Cup title in 2019