‘আমি এখনও প্রস্তত’, নির্বাচকদের কানে পৌঁছচ্ছে শামির জোরাল শব্দ! দলে ফেরার দাবিতে আগুন ঝরাচ্ছেন শামি!
রঞ্জি ট্রফিতে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলের নির্বাচকদের উদ্দেশে জোরাল বার্তা দিচ্ছেন মুহাম্মদ শামি। উইকেটের ঝড় তুলে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত।

ভারতীয় পেসার Mohammed Shami আবারও প্রমাণ করলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার লড়াইয়ে তিনি এখনও সমানভাবে প্রস্তুত। ২০২৫–২৬ রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নতুন করে নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলিং দেখিয়ে দিয়েছে—অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার সমন্বয় এখনও ভারতীয় ক্রিকেটের সম্পদ হয়ে থাকতে পারে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই শামি ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে চলেছেন। সাম্প্রতিক ম্যাচে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ইনিংসে চাপ তৈরি করেন। এই স্পেল শুধু পরিসংখ্যানের দিক থেকে নয়, ম্যাচের প্রেক্ষাপটেও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিপক্ষ যখন বড় স্কোরের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই শামির নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ ও অভিজ্ঞতা দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
রঞ্জি ট্রফিতে ধারাবাহিকতা নিয়ে কী বলছে পরিসংখ্যান?
Ranji Trophy-র চলতি মরসুমে শামি ইতিমধ্যেই একাধিক ম্যাচে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। মাত্র কয়েকটি ম্যাচে তিনি দুই অঙ্কের উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে একটি পাঁচ উইকেটের ইনিংসও রয়েছে। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই মূলত তাঁর নির্বাচনে ফেরার দাবিকে জোরালো করছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর একজন পেসারের পক্ষে একই গতিতে এবং একই ধারায় পারফর্ম করা সহজ নয়। কিন্তু শামি যে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত, তা তাঁর বোলিং স্পেলেই স্পষ্ট। গতি, সুইং এবং সঠিক জায়গায় বল ফেলার দক্ষতা—এই তিনটি উপাদান এখনও তাঁর বোলিংয়ের প্রধান শক্তি।
আরো পড়ুন: আচমকা অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়কই বাদ!
নির্বাচকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে কি শামির?
ভারতীয় দলে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ পেসারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচকমণ্ডলীর নেতৃত্বে রয়েছেন Ajit Agarkar। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফিটনেস, ম্যাচ-রেডিনেস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এই বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শামির সাময়িক অনুপস্থিতির পেছনে মূল কারণ ছিল ম্যাচ ফিটনেস ও ধারাবাহিক খেলার অভাব।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শামি সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। প্রকাশ্যে কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি বরং ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল হাতে নিজের জবাব দিচ্ছেন। এই পেশাদার মনোভাবই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
ভারতীয় ক্রিকেট এখন একটি রূপান্তরের পর্যায়ে। একদিকে নতুন প্রজন্মের পেসাররা উঠে আসছেন, অন্যদিকে অভিজ্ঞ বোলারদের অভিজ্ঞতা বড় টুর্নামেন্টে অমূল্য হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে শামির মতো অভিজ্ঞ পেসারের উপস্থিতি দলকে ভারসাম্য দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ বা আইসিসি টুর্নামেন্টের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ বোলারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। শামির অতীত পারফরম্যান্স, বিশেষ করে কঠিন কন্ডিশনে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা, তাঁকে এখনও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। তাই নির্বাচকদের সামনে এখন প্রশ্ন—তরুণদের সুযোগ অব্যাহত রাখা হবে, নাকি অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখা হবে?
কী অবস্থা শামির ফিটনেসের?
একজন পেসারের জন্য ফিটনেসই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিক চোট কাটিয়ে শামি আবার মাঠে ফিরেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা স্পেল বল করে তিনি দেখিয়েছেন যে ম্যাচের চাপ সামলাতে প্রস্তুত।
শুধু শারীরিক সক্ষমতাই নয়, মানসিক দৃঢ়তাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারান, কিন্তু শামি সেই পথ বেছে নেননি। তিনি রঞ্জি ট্রফিকে নিজের প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় শামির ভূমিকা!
ভারতীয় দলের সামনে রয়েছে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০—তিন ফরম্যাটেই গভীর স্কোয়াড তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এমন পরিস্থিতিতে শামির মতো অভিজ্ঞ বোলারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা কঠিন।
নির্বাচকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা এবং বর্তমান ফর্ম। সেই মানদণ্ডে বিচার করলে শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অবশ্যই ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচকমণ্ডলীর, তবুও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাকে জোরদার করছে।
এখন কি তবে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা?
ক্রিকেটে শেষ কথা বলে পারফরম্যান্স। ব্যক্তিগত মত, বিতর্ক বা অনুমান—সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় মাঠের ফলাফল। Mohammed Shami ঠিক সেই পথই বেছে নিয়েছেন। তিনি কথার বদলে বল হাতে উত্তর দিচ্ছেন।
রঞ্জি ট্রফির মতো প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক উইকেট নেওয়া সহজ কাজ নয়। কিন্তু শামি দেখিয়েছেন, তিনি এখনও বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচকেরা তাঁর এই বার্তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন। তবে এটুকু নিশ্চিত—ভারতীয় ক্রিকেটে অভিজ্ঞ পেসারের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, আর শামি সেই দরজায় বারবার কড়া নাড়ছেন।
Tags:



