হ্যান্ডশেক বিতর্কের মাঝেই আক্রমকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলিতে মজলেন হিটম্যান, ভারত–পাক ম্যাচেই ধরা পড়ল অন্য ছবি!
গত কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ম্যাচ শেষে হাত মেলানো বা কথাবার্তা এড়িয়ে যাওয়ার কিছু দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে দুই দেশের সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও দেখা যায়।

যদিও ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়, তবুও ভারত–পাক ম্যাচে প্রতিটি আচরণ বিশেষ গুরুত্ব পায়। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণকে অনেক সময় বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়।
ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই আবেগ, ইতিহাস এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মিশেল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটের মাঠেও পড়েছে বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ম্যাচ শেষে বা আনুষ্ঠানিক মুহূর্তে ‘হ্যান্ডশেক’ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নতুন মাত্রা পেয়েছে এক বিশেষ দৃশ্যের পর—যখন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক Rohit Sharma কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার Wasim Akram-কে আলিঙ্গন করেন।
হ্যান্ডশেক বিতর্কের প্রেক্ষাপট!
গত কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ম্যাচ শেষে হাত মেলানো বা কথাবার্তা এড়িয়ে যাওয়ার কিছু দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে দুই দেশের সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও দেখা যায়।
যদিও ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়, তবুও ভারত–পাক ম্যাচে প্রতিটি আচরণ বিশেষ গুরুত্ব পায়। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণকে অনেক সময় বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়।
আরো পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে পৌঁছালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিন্তু ছিটকে গেল এই দেশ!
কলম্বোতে মিলল ভিন্ন বার্তা!
এই আবহেই কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন ছবি সামনে আসে। ICC পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ট্রফি প্রদর্শনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Rohit Sharma। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তিনি ট্রফি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ICC-র প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা এবং Wasim Akram।
ট্রফি উন্মোচনের পর আনুষ্ঠানিক মুহূর্তে রোহিত ও আক্রম প্রথমে হাত মেলান এবং পরে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্ত বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল, কারণ তখনই হ্যান্ডশেক বিতর্ক নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
এই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই একে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখেন—যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান রাজনৈতিক বা ক্রীড়া উত্তেজনার ঊর্ধ্বে স্থান পায়।
প্রাক্তনদের সম্পর্ক বনাম বর্তমান বাস্তবতা!
শুধু রোহিত ও আক্রম নন, আরও কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকেও ভারত–পাক ম্যাচে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়। Harbhajan Singh-কে দেখা যায় পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক Misbah-ul-Haq-এর সঙ্গে কথা বলতে। অন্যদিকে Sunil Gavaskar এবং Waqar Younis-এর মধ্যেও ছিল স্বাভাবিক হাসি-ঠাট্টা।
এই দৃশ্যগুলো অনেকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—বর্তমান প্রজন্মের উপর যেসব চাপ ও প্রত্যাশা কাজ করে, প্রাক্তনদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে কম। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পেশাদার সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিজ্ঞতার বন্ধন রয়েছে, যা মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ছাপিয়ে যায়।
ICC বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রীড়াসুলভ আচরণ!
ICC পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। এই মঞ্চে প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি ছবি কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। তাই রোহিত–আক্রমের আলিঙ্গনকে অনেকেই ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
রোহিত পরে ভারতীয় দলের ডাগআউটে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের উৎসাহ দেন। তাঁর উপস্থিতি ও আচরণ অনেকের মতে, একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা দেয়—মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু পারস্পরিক সম্মানও বজায় থাকবে।
মাঠের লড়াই কি ২২ গজেই সীমাবদ্ধ?
ভারত–পাক ম্যাচে আবেগ সবসময়ই তীব্র। সমর্থকদের প্রত্যাশা, মিডিয়ার বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে এই ম্যাচ আলাদা মাত্রা পায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি কেবল ২২ গজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়?
অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রীড়াসুলভ আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিত–আক্রমের মুহূর্তটি কেবল একটি আলিঙ্গন নয়, একটি প্রতীকী বার্তা।
হ্যান্ডশেক বিতর্কের মাঝেই কলম্বোয় দেখা সেই আলিঙ্গন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন বর্তমান ক্রিকেটারদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে প্রাক্তনদের সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক অন্য ছবি তুলে ধরছে।
ক্রিকেট ইতিহাসে ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই চিরকালই স্মরণীয় থাকবে। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও পারস্পরিক সম্মান ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব যে গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন Rohit Sharma এবং Wasim Akram।
Tags:






